Property & Real Estate Law

বাংলাদেশে পার্টিশন মামলা – জমি ভাগের আইন, প্রক্রিয়া ও করণীয়

পার্টিশন মামলা (Partition Suit) হলো এমন একটি মামলা যেখানে যৌথ মালিকানাধীন (Joint Ownership) কোনো সম্পত্তি (বিশেষ করে জমি) একাধিক মালিকের মধ্যে আইনি ভাবে ভাগ করা হয়।

 

অর্থাৎ, যখন একাধিক ভাই-বোন, উত্তরাধিকারী বা পরিবারের সদস্যরা কোনো জমির যৌথ মালিক, কিন্তু পারিবারিকভাবে জমি ভাগাভাগিতে একমত হতে পারেন না — তখন আদালতে পার্টিশন মামলা করা যায়।

 

👉 এই মামলার উদ্দেশ্য হলো, যৌথ সম্পত্তিকে পৃথক মালিকানায় ভাগ করে প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করা।

কখন পার্টিশন মামলা করা যায়?

  • যখন একাধিক ব্যক্তি একসাথে কোনো জমির মালিক, কিন্তু লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে জমি ভাগাভাগি হয়নি।

  • যখন কেউ নিজের অংশ দাবি করলেও অন্যরা তা দিতে রাজি নয়।

  • যখন পারিবারিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি একত্রে থেকে ঝামেলা তৈরি করছে।

  • যখন এক বা একাধিক অংশীদার জমি বিক্রি বা দখলে রাখতে চাইছে, কিন্তু অন্যরা সম্মত নয়।

বাংলাদেশের আইনি ভিত্তি

বাংলাদেশে পার্টিশন মামলার মূল আইন হলো Partition Act, 1893
এই আইনে বলা আছে যে — যদি কোনো সম্পত্তি ভাগ করা সম্ভব না হয়, আদালত সেটি বিক্রির নির্দেশ দিতে পারে এবং বিক্রির অর্থ অংশ অনুযায়ী বণ্টন করবে।

তাছাড়া, দেওয়ানি আদালত (Civil Court) জমি ভাগের সব মামলা শুনানির ক্ষমতা রাখে।

“Law is not just about rules, it’s about empowering justice, progress, and every human possibility.”

কীভাবে পার্টিশন মামলা করবেন — ধাপে ধাপে গাইড

ধাপ ১: মালিকদের ও সম্পত্তির তালিকা তৈরি করুন

প্রথমেই জানতে হবে:

  • কারা সম্পত্তির অংশীদার? (সহ-মালিক, ভাই-বোন, উত্তরাধিকারী ইত্যাদি)

  • জমির বিবরণ: খতিয়ান/পর্চা নম্বর, মৌজা, দাগ নম্বর, সীমানা, পরিমাণ ইত্যাদি।

  • কে কতটুকু অংশের দাবি করছে তা স্পষ্ট করুন।

ধাপ ২: আপোষে সমাধানের চেষ্টা করুন

আদালত সাধারণত চায় আগে পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হোক।
যদি সেটা না হয়, তখন আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।

ধাপ ৩: আদালতে মামলা দায়ের

  • মামলা দায়ের করতে হবে যে এলাকায় সম্পত্তি অবস্থিত, সেই এলাকার দেওয়ানি আদালতে (Civil Court)

  • মামলার কপি (Plaint) তে থাকবে:

    • জমির বিবরণ

    • মালিকদের নাম ও অংশ

    • কেন ভাগ প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন (নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো)

  • নির্ধারিত কোর্ট ফি (Court Fee) পরিশোধ করুন।

ধাপ ৪: আদালতের সমন ও উত্তরপত্র

  • আদালত সমস্ত মালিকদের সমন পাঠাবে।

  • প্রত্যেকে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান জানাবে।

ধাপ ৫: প্রাথমিক ডিক্রি (Preliminary Decree)

  • যদি জমি ভাগ করা সম্ভব হয়, আদালত প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করে ডিক্রি জারি করবে

  • যদি জমি ভাগ করা সম্ভব না হয় (যেমন ছোট জমি, একটি বাড়ি ইত্যাদি), তখন আদালত বিক্রির নির্দেশ দিতে পারে।

ধাপ ৬: চূড়ান্ত ডিক্রি (Final Decree) ও বাস্তবায়ন

  • আদালতের নির্দেশে সার্ভেয়ার বা কমিশনার জমি ভাগ করবে।

  • ভাগের পর প্রত্যেক অংশীদার তার নিজস্ব অংশে দখল (Possession) পাবেন।

  • বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রির টাকা অংশ অনুযায়ী ভাগ হবে।

ধাপ ৭: নামজারি (Mutation) ও নথি আপডেট

  • পার্টিশনের পর নতুন নামজারি করতে হবে স্থানীয় ভূমি অফিসে।

  • রেকর্ডে (খতিয়ান/পর্চা) প্রত্যেক মালিকের নাম আপডেট করতে হবে।

পার্টিশন মামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • মূল দলিল (Registered Deed)

  • খতিয়ান / পর্চা

  • নামজারি সনদ

  • মৌজা ম্যাপ

  • কর রশিদ (Tax Receipt)

  • পরিবার সদস্যদের তালিকা (Family Tree)

  • পূর্বের কোনো পারিবারিক চুক্তি থাকলে তার কপি

Partition Suit in Bangladesh – Step-by-Step Guide & Legal Strategy

পার্টিশন মামলার খরচ ও সময়সীমা

  • সময়: সাধারণত ১-৩ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে, মামলার জটিলতা ও পক্ষের সংখ্যা অনুযায়ী।

  • খরচ: কোর্ট ফি, আইনজীবীর ফি, সার্ভেয়ার কমিশন, ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও রেজিস্ট্রেশন খরচ ইত্যাদি।

 

👉 অনেক সময়, রেজিস্টার্ড পার্টিশন ডিড (Registered Partition Deed) করে আদালতের বাইরে সমাধান করাই সময় ও খরচে সাশ্রয়ী হয়।

সাধারণ ভুল এবং কীভাবে এড়াবেন

❌ সব মালিককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করা
❌ আংশিক জমি ভাগ করতে চাওয়া (আদালত পুরো সম্পত্তি ভাগের নির্দেশ দিতে পারে)
❌ সঠিক জমির বিবরণ না দেওয়া
❌ নামজারি না করা (Mutation না করলে রেকর্ডে আপনার অংশ দেখাবে না)
❌ দলিল যাচাই না করা
✅ সবসময় একজন অভিজ্ঞ ল্যান্ড ল’ (Land Law) বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

FAQs

যেকোনো সহ-মালিক বা উত্তরাধিকারী যার সম্পত্তিতে অংশ আছে কিন্তু ভাগ পাচ্ছে না, সে মামলা করতে পারে।

হ্যাঁ, যদি জমি বাস্তবে ভাগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত বিক্রির নির্দেশ দেয় এবং টাকা ভাগ করে দেয়।

 

যদি সব মালিক রাজি থাকে, তাহলে রেজিস্টার্ড পার্টিশন ডিড করলেই মামলা ছাড়াই জমি ভাগ করা যায়।

সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। যদি আপোষ হয়, তাহলে সময় অনেক কম লাগে।

আমাদের সহায়তা

আমাদের আইনজীবী টিম পার্টিশন মামলা ও জমি ভাগ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে পেশাদার সহায়তা দিয়ে থাকে।

আমরা আপনাকে সাহায্য করি —

  • জমির মালিকানা যাচাই ও নথি প্রস্তুত করতে

  • আদালতে মামলা দায়ের ও কোর্ট প্রক্রিয়া পরিচালনায়

  • পার্টিশন ডিড ও রেজিস্ট্রেশনে

  • আপোষ বা বিকল্প সমাধানে দ্রুত সমাধান আনতে

Book a Consultation Today

যদি আপনি জমির মালিকানা বা অংশ নিয়ে সমস্যায় থাকেন, দেরি না করে এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
আমরা আপনাকে আইনগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ, দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দিতে প্রস্তুত।