Company Formation

কিভাবে বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন করবেন ২০২৫

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company / Pvt. Ltd.) অনেক উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীর জন্য যুক্তিযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান মানে—কারণ এটি শেয়ারহোল্ডারদের সীমিত দায় দেয়, ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং একটি স্পষ্ট কর্পোরেট কাঠামো দেয়। এই গাইডটি সাধারণ ভাষায় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে: আইনি শর্তাবলি, ধাপে ধাপে নিবন্ধন, দরকারি কাগজপত্রের চেকলিস্ট, সাধারণ সময়রেখা ও খরচ, নিবন্ধনের পর ফলো-আপ কমপ্লায়েন্স এবং স্থানীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য ব্যবহারিক টিপস।

 

গুরুত্বপূর্ণ: নিচের অফিসিয়াল ও ব্যবহারিক পয়েন্টগুলো RJSC (Registrar of Joint Stock Companies and Firms — রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস) এবং সাম্প্রতিক বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কি?

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Pvt. Ltd.) হচ্ছে Companies Act অনুযায়ী নিবন্ধনকৃত স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা। এর প্রধান সুবিধা:

  • শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সীমিত দায় (limited liability)।

  • প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট গভর্নেন্স কাঠামো।

  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ঋণ ও প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীদের কাছে সহজে বিশ্বাসযোগ্যতা পাওয়া।

অনেক ছোট-মাঝারি ব্যবসা, স্টার্টআপ ও বিদেশি বিনিয়োগকারী এই ফর্মটি পছন্দ করেন কারণ এটি মালিকদের আইনি সুরক্ষা এবং স্থায়িত্ব দেয়।

কে নিবন্ধন করতে পারবে - মৌলিক আইনি শর্তাবলি

  • ডিরেক্টরস (নির্দেশক): একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে আততকৃত্বে দু’জন (কমপক্ষে ২ জন) ডিরেক্টর থাকা আবশ্যক।

  • শেয়ারহোল্ডারস: সাধারণত ২ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত। ব্যক্তিবিশেষ বা কর্পোরেট উভয়ই শেয়ারহোল্ডার হতে পারে। বিদেশি নাগরিক ও বিদেশি কোম্পানিও শেয়ারহোল্ডার হতে পারেন।

  • রেজিস্টার্ড অফিস: বাংলাদেশের ভৌত (physical) ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক; P.O. বক্স গ্রহণযোগ্য নয়।

  • কোম্পানি সেক্রেটারি: RJSC নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনে কর্পোরেট গভর্নেন্স অনুসারে সেক্রেটারি নিয়োগ করতে হতে পারে।

  • নাম ক্লিয়ারেন্স: RJSC থেকে নাম অনুমোদন (name clearance) নিতে হবে—এটি সাধারণত ৩০ দিন বৈধ থাকে, প্রয়োজন হলে বৃদ্ধি করা যায়।

“Law is not just about rules, it’s about empowering justice, progress, and every human possibility.”

ধাপে ধাপে: বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া

১) কোম্পানির নাম চয়ন ও যাচাই

  • ২–৪টি বিকল্প নাম প্রস্তাব করুন এবং RJSC অনলাইন পোর্টালে নাম ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করুন।

  • নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন। নাম ক্লিয়ারেন্স সাধারণত ৩০ দিন বৈধ থাকে—এই সময়সীমার মধ্যে ফাইলিং করতে হবে, নথি না জমা দিলে বা বিলম্ব হলে এক্সটেনশন আবেদন করতে হবে।

২) শেয়ারহোল্ডিং, ডিরেক্টর ও পুঁজির সিদ্ধান্ত

  • সকল ডিরেক্টর ও শেয়ারহোল্ডারের বিবরণ প্রস্তুত করুন: শেয়ার বণ্টন, অথরাইজড‌ ক্যাপিটাল ও পেইড-আপ ক্যাপিটাল নির্ধারণ করুন।

  • প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসংগত পেইড-আপ ক্যাপিটাল নির্ধারণ করা শোধরানো।

৩) সংবিধানগত কাগজপত্র (MoA ও AoA) তৈরি

  • মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (MoA)আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (AoA) নির্মাণ করুন। এগুলো কোম্পানির উদ্দেশ্য, শেয়ার শ্রেণি, ডিরেক্টরদের ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা নির্ধারণ করে।

৪) (প্রয়োজনে) অস্থায়ী/নন-অপারেটিং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন

  • বিশেষত বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে প্রাথমিক শেয়ার রেমিট্যান্স গ্রহণের জন্য non-operating বা temporary account খুলে ব্যাংক থেকে encashment certificate নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। বিদেশী মাধ্যমে পেইড-আপ ক্যাপিটাল থাকলে ব্যাংক সমন্বয় জরুরি।

৫) প্রযোজ্য RJSC ফর্ম ও সমর্থনকারী নথি প্রস্তুত

  • সাধারণত ব্যবহৃত ফর্ম: Form I (Declaration), Form VI (Registered Office), Form IX (Consent of Directors), Form XII (Particulars of Directors) ইত্যাদি।

  • ডিরেক্টর ও শেয়ারহোল্ডারের পাসপোর্ট বা NID কপি, ঠিকানার প্রমাণ, বোর্ড রেজোলিউশন ও স্বাক্ষরের কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।

৬) RJSC-এ ইন্টারনেট/অফলাইন জমা

  • RJSC অনলাইন পোর্টাল (roc.gov.bd) অথবা সংশ্লিষ্ট RJSC অফিসে ডকুমেন্ট জমা দিয়ে সরকারী ফি পরিশোধ করুন। RJSC নথি পর্যালোচনা করে সঠিক থাকলে Certificate of Incorporation ইস্যু করবে।

৭) নিবন্ধনোত্তর কাগজপত্র গ্রহণ

  • RJSC থেকে Certificate of Incorporation, Form XII (ডিরেক্টরদের তালিকা) এবং MoA ও AoA-এর সার্টিফাইড কপি মিলবে—এই কাগজপত্রগুলো নিরাপদ জায়গায় রাখুন। এগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ও অন্যান্য রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরকার হবে।

সাধারণ সময়রেখা ও ব্যবহারিক মন্তব্য

  1. নাম ক্লিয়ারেন্স: সাধারণত ১–৩ ব্যবসায়িক দিন; সার্টিফিকেট ৩০ দিন বৈধ।

  2. ডকুমেন্ট প্রস্তুতি: প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে ১–৩ ব্যবসায়িক দিন।

  3. RJSC প্রসেসিং ও ইনকর্পোরেশন: নথি সঠিক হলে সাধারণত ৭–১৪ কার্যদিবস; RJSC-এর বোজাপূর্ণ-তার (workload) কারণে সময় বাড়তে পারে। বিদেশি পুঁজি, ওয়ার্ক পারমিট বা অন্যান্য অনুমোদন থাকলে অতিরিক্ত সময় ধরুন।

খরচ কেমন হতে পারে

  • সরকারী ফি RJSC-এর নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী অথরাইজড ক্যাপিটালের উপর নির্ভর করে। এছাড়া স্ট্যাম্প ডিউটি, নোটারি/অ্যাপোস্টিল/অনুবাদ খরচ, পেশাদার ফি (আইনজীবী/সিক্রেটারিয়াল সার্ভিস), ব্যাংক চার্জ ইত্যাদি যোগ হবে।

  • নির্দিষ্ট খরচের সঠিক হিসাব পেতে RJSC-এর ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন—অথবা আপনার অথরাইজড ক্যাপিটাল জানালে সঠিক সরকারী ফি নির্ধারণ করা যায়।

 

প্রতিটি সম্ভাব্য খরচ আইটেম:

  • নাম ক্লিয়ারেন্স ফি

  • RJSC নিবন্ধন ফি (অথরাইজড ক্যাপিটাল ভিত্তিক)

  • MoA/AoA স্ট্যাম্প ডিউটি

  • বিদেশি ডকুমেন্ট হলে নোটারাইজেশন, অনুবাদ এবং অ্যাপোস্টিল খরচ

  • পেশাদার সেবার ফি (আইনজীবী/প্যারাকলিগ্যাল/সিক্রেটারিয়াল)

  • ব্যাংক চার্জ ও এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট চার্জ

দরকারি ডকুমেন্টস

প্রি-স্ক্যান করা, সার্টিফায়েড কপি ও অনলাইন আপলোডের জন্য নিয়মমতো প্রস্তুত রাখুন:

  1. নাম ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।

  2. স্বাক্ষরিত MoA ও AoA।

  3. Form I, Form VI, Form IX, Form XII এবং অন্যান্য RJSC ফর্মসমূহ।

  4. সকল ডিরেক্টর ও শেয়ারহোল্ডারের NID বা পাসপোর্ট কপি।

  5. ডিরেক্টরদের এবং শেয়ারহোল্ডারদের ঠিকানার প্রমাণ।

  6. ইনকর্পোরেশন অনুমোদনকারী বোর্ড রেজোলিউশন (যদি প্রযোজ্য) এবং কোম্পানির সিক্রেটারি/সাইনেটর নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজ।

  7. বিদেশি শেয়ারহোল্ডার থাকলে: ব্যাংক এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট, ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সের প্রমাণ এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনপত্র।

How to Register a Private Limited Company in Bangladesh 2025

বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পেইড-আপ ক্যাপিটাল প্রসেস

  • বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাংক সাধারণত রেমিট্যান্সের ডকুমেন্টেশন চাইবে এবং প্রস্তাবিত কোম্পানির জন্য ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স নিশ্চিতকরণ হিসেবে encashment certificate ইস্যু করবে।

  • RJSC নথিতে প্রায়ই পেইড-আপ ক্যাপিটালের প্রমাণ বা ক্যাপিটাল স্ট্রাকচারের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়—তাই ব্যাংকের সাথে সমন্বয় আগে থেকে করে নিন এবং প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ ব্যাংক নোটিফিকেশনগুলোর জন্যও প্রস্তুত থাকুন।

নিবন্ধনের পর কর, আইনগত ও ব্যবসায়িক করণীয়

ইনকর্পোরেশনের পর সাধারণত নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া প্রয়োজন:

  • স্থায়ী (পুরো) কর্পোরেট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন।

  • আপনার স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করুন।

  • ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) নিন এবং প্রয়োজনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করুন।

  • যদি বিদেশি পুঁজির বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিষয় থাকে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থায় রেজিস্ট্রেশন বা নোটিফিকেশন করুন।

  • স্ট্যাটুটরি বই-পত্র, মিটিং মিনিট, হিসাবরক্ষণ বজায় রাখুন এবং বার্ষিক রিটার্ন, কর রিটার্ন সময়মতো জমা দিন।

সাধারণ ভুল ও কীভাবে এড়াবেন

  • ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট: জমার আগে সকল আইডি, স্বাক্ষর ও ফরম্যাট ভালভাবে যাচাই করুন।

  • ব্যাংক সমন্বয় বিলম্ব: বিদেশি পুঁজি থাকলে ব্যাংকের প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু করুন—এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্তির জন্য সময় লাগতে পারে।

  • কমপ্লায়েন্স বোঝা হালকাভাবে নেওয়া: বার্ষিক রিটার্ন, কর ফাইলিং ও রেকর্ড-রক্ষণ অবহেলা করলে জরিমানা বা আইনি জটিলতা হতে পারে—নিয়মিত সিক্রেটারিয়াল ও অ্যাকাউন্টিং সাপোর্ট রাখুন।

  • ভুল শেয়ার স্ট্রাকচার পরিকল্পনা: শেয়ার শ্রেণি ও শেয়ারহোল্ডার চুক্তি আগে থেকে ভালোভাবে ঠিক করুন যাতে ভবিষ্যতে বিরোধ না হয়।

RJSC ও ফাইলিং সংক্রান্ত যুক্তিসম্মত টিপস

  • RJSC অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করলে নাম ক্লিয়ারেন্স ও অনেক ফাইলিং অনলাইনে করা যায়—এটি সময় ও কাগজপত্র কমায়।

  • নাম অনুমোদনের পরে ৩০ দিনের মধ্যে ফাইলিং করতে না পারলে এক্সটেনশন আবেদন করুন।

  • RJSC-এর ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে আপনার অথরাইজড ক্যাপিটালের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সরকারী চার্জ জানা যায়।

  •  

FAQs

কমপক্ষে ২ জন ডিরেক্টর বাধ্যতামূলক। শেয়ারহোল্ডার সাধারণত ২–৫০ জন পর্যন্ত হতে পারে।

 

আইনগতভাবে নির্দিষ্ট ন্যূনতম পেইড-আপ ক্যাপিটাল নেই; কিন্তু ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসংগত অ্যামাউন্ট আশা করে।

 

(উপরের “সময়রেখা” দেখুন) নাম ক্লিয়ারেন্স ১–৩ দিন, RJSC প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৭–১৪ কার্যদিবস—তবে নথি সঠিক না হলে বা বিদেশি পুঁজি যুক্ত থাকলে সময় বাড়তে পারে।

 

হ্যাঁ—বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক ডিরেক্টর হতে পারেন; তবে পরিচয়প্রমাণ, পাসপোর্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংক/বাংলাদেশ ব্যাংক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

আমরা কীভাবে সাহায্য করি

আমরা পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে end-to-end সেবা প্রদান করি:

  • নাম ক্লিয়ারেন্স ও সকল ডকুমেন্ট ড্রাফটিং।

  • RJSC ফাইলিং, লায়জন ও ফলো-আপ।

  • ব্যাংক সমন্বয়, এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট ও বিদেশি পুঁজির সমর্থন।

  • ট্রেড লাইসেন্স, TIN ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন।

  • ইনকর্পোরেশন-উপরবর্তী সিক্রেটারিয়াল সার্ভিস ও বার্ষিক কমপ্লায়েন্স।

আজই কনসালটেশন বুক করুন

আপনি যদি ঝঞ্ঝাট ছাড়া আপনার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন করতে চান, আমাদের টিমের সাথে কনসালটেশন বুক করুন। আমরা আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করব, RJSC এবং ব্যাংকের সাথে আলোচনায় আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করব এবং নিশ্চিত করব কোম্পানিটি মসৃণভাবে চালু হয়—আপনার প্রয়োজনীয় সমাধান আমরা কাস্টমাইজ করে দেব।